cooch behar rajbari কোচবিহারের রাজপ্রাসাদ

cooch behar rajbari

বাঙালী , ইংরেজী কিংবা যেমন গায়ত্রী র ফুল বহারে শিকারের সময় মহারাজা , মহারাণী , রাজকুমার , রাজকুমারীরা সঙ্গে যেতেন । যেখানে শিকারে যেতেন , দুপুরে সেখানেই আহারাদির ব্যবস্থা হতাে । গায়ত্রী দেবীর মুখে শুনেছি , সেসময়ে নাকি তাঁরা খুবই আনন্দেই থাকতে পারতাে।

cooch behar rajbari

বন্দুকের গুলি ভরে দিতে পাশের লােক । ছােট বােন মেনকা দেবী সবসময় । সুদৃশ্য শাড়ি ও নানারকম অলংকারে সুসজ্জিত থাকতে ভালবাসতেন । কিন্তু গায়ত্রী দেবী ছিল একেবারেই আলাদা । রূপের জৌলুষ এমনিতেই প্রকাশ পেতে । মনে হয় প্রকৃতির মতাে সাধারণ সারল্যেই তার রূপের বিকাশ , কবিতার ছন্দে আপন মনেই সুর হয়ে ভাসে , অনুরণন থেকে যায় সারাক্ষণ । সকালবেলা রাজপ্রাসাদের সকলে মিলে নিজ নিজ ঘােড়ায় চড়ে ভ্রমণে যেতেন । অশ্বারােহন শেষে স্নান করে প্রাতঃরাশে বসতেন । প্রাতঃরাশে সকলে মিলে কি মজাই না হতাে ।

cooch behar rajbari

cooch behar rajbari
cooch behar rajbari photo

হৈ হৈআনন্দে মেতে উঠতাে সকলে । তারপর যে যার ঘরে চলে যেতেন । সবার আলাদা আলাদা গৃহশিক্ষক ছিল । ল্যাটিন শেখানাের জন্য ইটালিয়ান শিক্ষক , ইতিহাস , সাহিত্য , ইংরেজি , বাংলা , সংস্কৃত শেখার জন্যে ভিন্ন ভিন্ন । শিক্ষক ছিল । গায়ত্রী দেবী বলেছেন , ছেলেবেলা থেকেই মা সকলকে তাদের হাত খরচ দেবার ব্যবস্থা করেন । সেই হাত খরচ বাঁচিয়ে ক্যামেরার ফিল্ম , কমিকসের বই , বালিকাদের পছন্দের জিনসপত্র কেনা হতাে । পরবর্তীতে একটু বড় হলে ভাতা দেবার ব্যবস্থা করেছিলেন । সেই সময় সেই অর্থ দিয়ে শখ করে পােষাক পরিচ্ছদ অথবা আমােদ প্রমােদের জিনিসপত্র কেনা হতাে । অন্দরমহলের রােমাঞ্চকর এইসব স্মৃতি বলতে গিয়ে জয়পুরের রাজমাতার চোখের কোণ । চিকচিক করে ওঠে ।

cooch behar rajbari

আজ তিনি নেই , তার সেই রােমন্থন বাতাসে বাতাসে অশ্রু ভারাক্রান্ত করে তােলে , ভারী হয়ে ওঠেআজকের এই কোচবিহারের রাজপ্রাসাদ । স্বর্গপুরীর দেবকন্যা বুঝি মর্ত্যে এসেছিলেন কিছুদিনের জন্যে , আবারচলে গেলেন নিজ পুরীতে , রেখে গেলেন , সুখ – দুঃখের নানা স্মৃতি । সেই স্মৃতিতেই ভাসছে । কোচবিহারের অগণিত মানুষ । সব মানুষ নয় , কেউ কেউ আসেন , কিছুদিনের জন্যে আনন্দ দেন ,

cooch behar rajbari
cooch behar rajbari

ভালবাসেন , আদর্শ ও ব্যক্তিত্ব কাকে বলে শিক্ষা দেন , সাহস ওমর্যাদা কিভাবেমানুষকে পরিপূর্ণতা দেয় সেইউপলব্ধি করান , তারপর একদিন উধাও হয়ে যান । যে ফাক তৈরী হয় , তাকে পূর্ণতা দিতে অপারগ হয়ে আজকের মানুষ দুঃখ সাগরে ভাসেন । অতীতের গৌরবময় স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে বাচতে চাইছে অনেকে । কিন্তু এখানেই ছিল গায়ত্রী দেবীর ফারাক বা দূরত্ব । তিনি বলতেন , অতীতের দুঃখে নয় , বর্তমানের কঠিন বাস্তবকে মেনে নিতে হবে । আগামী দিনের ভবিষ্যৎকে সহজ সরলভাবে পেতে যাত্রাপথকে মসৃন রাজকন্যা গায়ত্রী দেবী / ১৩

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *